বাংলা সমাস — চেনার সহজ উপায়
Bangla Somas (Compounds) — Identification Guide
দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাস কীভাবে দ্রুত চিনবেন—ব্যাসবাক্যসহ উদাহরণ ও শনাক্তকরণের নিয়ম।
BCSEXAM.ORG সম্পাদনা দল · হালনাগাদ
পরস্পর অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একপদীকরণকে সমাস বলে। সমাস চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ব্যাসবাক্য তৈরি করা এবং দেখা—কোন পদের অর্থ প্রধান।
শনাক্তকরণের সহজ সূত্র
| প্রধান অর্থ | সমাস | উদাহরণ |
|---|---|---|
| উভয় পদের | দ্বন্দ্ব | মাতা-পিতা, দোয়াত-কলম |
| পরপদের | তৎপুরুষ / কর্মধারয় | রাজপুত্র, নীলাকাশ |
| পূর্বপদের (অব্যয়) | অব্যয়ীভাব | প্রতিদিন, উপকূল |
| অন্য কোনো পদের | বহুব্রীহি | দশানন, বীণাপাণি |
| সংখ্যাবাচক পূর্বপদ | দ্বিগু | ত্রিভুজ, পঞ্চবটী |
দ্বন্দ্ব সমাস
উভয় পদের অর্থই সমান প্রাধান্য পায়। ব্যাসবাক্যে "এবং", "ও", "আর" যুক্ত হয়। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম।
কর্মধারয় সমাস
বিশেষণ ও বিশেষ্যের মিলনে গঠিত, পরপদের অর্থ প্রধান। যেমন: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ; মহান যে রাজা = মহারাজ; কাঁচা যে মিঠা = কাঁচামিঠা।
তৎপুরুষ সমাস
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়। বিভক্তি অনুসারে এর নামকরণ হয়—দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী তৎপুরুষ।
- দ্বিতীয়া: দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- তৃতীয়া: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া
- চতুর্থী: বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল
- পঞ্চমী: বিদ্যালয় থেকে আগত = বিদ্যালয়াগত
- ষষ্ঠী: রাজার পুত্র = রাজপুত্র
- সপ্তমী: গাছে পাকা = গাছপাকা
বহুব্রীহি সমাস
কোনো পদের অর্থই প্রধান নয়; তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায়। যেমন: দশ আনন যার = দশানন (রাবণ); বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি (সরস্বতী); নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (শিব)।
দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব
- দ্বিগু: সংখ্যাবাচক পূর্বপদ ও সমাহার বোঝায় — তিন ভুজের সমাহার = ত্রিভুজ
- অব্যয়ীভাব: পূর্বপদ অব্যয় ও তার অর্থ প্রধান — কূলের সমীপে = উপকূল
